নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবৈধ ও নাম স্বর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছবি তুলতে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। পার্বতীপুরের সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ভোরের দর্পনের প্রতিনিধি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, মোস্তাফিজুর রহমান বকুল (দৈনিক ভোরের কাগজ), মঞ্জুরুল আলম (দৈনিক করতোয়া), হামলার শিকার মামুনুর রশিদ মামুন (দৈনিক মানবকণ্ঠ ও দি ফিনান্সিয়াল পোষ্ট), আব্দুল্লাহ আল মামুন (ডেইলী অবজারভার), আল মামুন মিলন (প্রতিদিনের সংবাদ) প্রমুখ। এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শাহাজুল ইসলাম, মেনহাজুল ইসলাম, নিরানন্দ রায়, জলিল সরকার, জাকারিয়া হোসেন, বদরুদ্দোজা বুলু, জোবায়দুর রহমান জবা, সুলতান মাহমুদ, শফিকুর রহমান, বেলাল হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, বাবু, আমজাদ হোসেন-১, আমজাদ হোসেন-২, মোক্তার হোসেন, মোরসালিন বাবলা ও স্বপন কুমার প্রমুখ। সাংবাদিক আতাউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, পাঁচজন সাংবাদিকের উপর হামলার সংবাদ ৯৯৯ নম্বরে জানানোর পরও নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে কোন কার্যকর ব্যবস্থাই নেননি পুলিশ। উল্টো পরোক্ষভাবে হামলাকারীদের পক্ষ নেন পার্বতীপুর থানার অজ্ঞাত এক কর্মকর্তা। সাংবাদিক আতাউর রহমান ২৪ ঘন্টার মধ্যে সকল হামলাকারীদের গ্রেফতার করার দাবী জানিয়ে বলেন, পুলিশ ব্যর্থ হলে সাংবাদিকগণ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। অন্যান্য বক্তারাও একই দাবী করেন মানববন্ধনে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের খয়ের পুকুর হাটে অনুমোদনহীন, অবৈধ ও নাম স্বর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ মামুন তার ৫ জন সহকর্মী সাংবাদিককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় তার সাথে ছিলেন ডেইলী অবজারভারের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, এশিয়ান টিভি’র জাকারিয়া হোসেন, যুগের আলো’র মেনহাজুল ইসলাম তারেক এবং বিএমএফ টিভি’র আসাদুজ্জামান আসাদ। বিকেল ৪টায় খয়ের পুকুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, সরকার মেডিসিন কর্ণার নামের একটি ঘরে একজন মহিলা কর্মচারী বসে আছে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে একজন ডাক্তার বসে। তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত ও প্রস্রাবসহ জটিল রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ডাক্তারী পরীক্ষা করান। অতঃপর একটি ঘরে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও একটি প্রিন্টার। হাটের ব্যবসায়ীগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দোকানটি’র নাম ‘মেডিসিন কর্নার’ লেখা হলেও তাতে কোন প্রকার ঔষধ দেখা যায়নি। মূলত সেখানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলে। রক্ত ও প্রস্রাব বা অন্যান্য টেস্ট করানোরও কোন যন্ত্রপাতি চোখে পড়েনি। এসব দৃশ্য ক্যামেরায় ধারন করার পর প্রতিষ্ঠানটি’র মালিক ডাঃ ওমর ফারুক সরকার মোবাইল ফোনে তার মহিলা কর্মচারীকে কল করে বলেন, সাংবাদিকদের অফিসে বসতে বলো। এমন সময় ওই ৫ সাংবাদিক ওমর ফারুক সরকারের সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য একটি হোটেলে অপেক্ষমান অবস্থায় ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা করা হয়। সাংবাদিক মামুনুর রশিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছোরা দ্বারা আঘাত করলে আঘাতটি তার ডান হাতে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যান্য সাংবাদিকদেরকেও এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে। অতঃপর একটি ঘরে আটকে রেখে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা চালায় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে মামুনুর রশিদের গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং হামলাকারীদের একজন তার ক্যামেরা ও মোবাইলসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় অন্যান্য লোকজন এগিয়ে এসে সকল সাংবাদিককে উদ্ধার করে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করান। ওই সময় সাংবাদিকগনের তথ্যদাতা সন্দেহে পল্লী চিকিৎসক ও হাটের ব্যবসায়ী সমিতি’র সাধারন সম্পাদক মিলনকেও বেদম মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা শেষে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ মামুন আজ শনিবার বাদী হয়ে বিকেল ৪টায় পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং- ৩১